দেশে
‘ক্ষতিকর’ তামাক
চাষের
পরিমাণ
বেড়েই
চলছে। স্বাস্থ্য ও
পরিবেশের জন্য
ক্ষতির
কারণ
জানা
সত্ত্বেও বেশি
লাভের
আশায়
তামাক
চাষ
করছেন
চাষীরা। এতে
সিগারেট কোম্পানিগুলো লাভবান
হলেও
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
গণমানুষের স্বাস্থ্য। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য
অনুযায়ী এবার
অন্তত
১৫
জেলায়
৪৫
হাজার
৩৭০
হেক্টর
জমিতে
তামাক
চাষ
হয়েছে। তবে
বেসরকারি সংস্থার হিসেবে,
তামাক
চাষের
পরিমাণ
এর
থেকে
অনেক
বেশি। স্বাস্থ্য ও
জমির
জন্য
ক্ষতিকারক তামাক
চাষ
বন্ধে
সরকারের ‘কার্যকর’ পদক্ষেপ নেই। তবে
কৃষকদের নিরুত্সাহিত করতে
ব্যাপক
প্রচারণাসহ বেশ
কিছু
নির্দেশনা মাঠ
পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়েছে
কৃষি
সম্প্রসারণ অধিদফতর। নির্দেশনাগুলো এখনও
বাস্তবায়ন শুরু
হলেএগুলো বাস্তবায়ন করা
হলে
অনেক
চাষী
নিজ
থেকে
তামাক
চাষ
থেকে
সরে
আসবেন।
মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৪৫ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু লালমনিরহাট জেলায় ৫ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে। এসব জমিতে আগে আলুসহ অন্যান্য ফসলের চাষ হতো। এছাড়াও নীলফামারী জেলায় ৪ হাজার ৭৯০ হেক্টর, মেহেরপুরে ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর, কুষ্টিয়ায় ২ হাজার হেক্টর, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ২৬৬ হেক্টর, খাগড়াছড়ি ৬৮০ হেক্টর, বান্দরবানে ৩ হাজার ১৯০ হেক্টর, চট্টগ্রামে ৩৮ হেক্টর, চুয়াডাঙ্গায় ৭৩০ হেক্টর, ঝিনাইদহে ১ হাজার ২১৫ হেক্টর, রাঙামাটিতে ২৭৫ হেক্টর, রংপুরে ২ হাজার ৫৮০ হেক্টর, টাঙ্গাইলে ৯৫ হেক্টর, কক্সবাজারে ১ হাজার ৫৫ হেক্টর ও দিনাজপুরে ৩১ হেক্টর জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষি কর্মকর্তা জানান, কৃষকরা উত্পাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বেশি লাভের আশায় তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছে। তারা চাষ এলাকাও পরিবর্তন করছে। আগে কম জনবসতিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় তামাক চাষ বেশি হতো। এখন লোকালয়ে তামাক চাষ শুরু হয়েছে। তিনি উদাহরণস্বরুপ বলেন, আগে পার্বত্য তিন জেলা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে তামাক চাষ বেশি হতো। এখন লালমনিরহাট ও নীলফামারির মতো কৃষি এলাকায় তামাক চাষ হচ্ছে। এমনকি ঢাকার পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলাতেও তামাক চাষ হচ্ছে। এদিকে কৃষি অধিদফতরের সম্প্রতি জারি করা এক চিঠিতে তামাক চাষের ক্ষতির দিক সম্পর্কে বলা হয়েছে, তামাক গাছের শিকড় মাটির গভীর থেকে খাদ্য গ্রহণের ফলে জমির উর্বরা শক্তি কমে যাচ্ছে, তামাক চাষে অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহারের ফলে মাটির অম্লতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তামাক চাষের ফলে তামাক থেকে উত্পাদিত পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্পাদিত তামাক পাতা শুকিয়ে তা দিয়ে তামাকজাত পণ্য তৈরি করা হয়। তামাক পাতা শুকাতে প্রয়োজন হয় বড় আকারের বিশেষ ধরনের চুল্লি। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, ১০০ কেজি কাঁচা তামাক পাতা শুকাতে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়াতে হয়। এগুলো পোড়ানোর সময় নির্গত ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে দূষিত হয় পরিবেশ। এ সময় এর আশপাশ দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর কার্বনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস দূষিত ও গরম করে বায়ুমণ্ডলকে। ওয়ার্ক ফর আ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর যে পরিমাণ গাছ কাটা হয় তার প্রায় এক চতুর্থাংশই পোড়ানো বা ব্যবহার করা হয় কেবল তামাক পাতা শুকানোর জন্য।
তামাক চাষ নিরুত্সাহিতকরণ কর্মসূচি : তামাক চাষ বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলেও কৃষকদের নিরুত্সাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তামাক চাষের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি চাষীদের বিকল্প লাভজনক ফসল চাষের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবেশে ক্ষতিকারক তামাক চাষের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও উচ্চ মূল্যের ফসল আবাদের দিকে সবার ঝুঁকতে হবে। তামাক চাষের পরিবর্তে মৌসুমে ফসলের আবাদের ব্যবস্থা নেয়া, উচ্চ মূল্যের ফসলের চাষ বাড়ানো, পরিবর্তিত আবহাওয়ায় সম্ভাবনাময় শস্য বিন্যাসের পরিবর্তন আনা, তামাকের পরিবর্তে দানা জাতীয় ফসল গম, ভুট্টা, কাউন ও চিনার চাষ করা, তামাক চাষ এলাকায় সাথী ফসলসহ আখ, আলু, গাজর, টমেটো আবাদ করা, ডাল জাতীয় ফসল মুগ, মসুর, খেসারি ও তেলজাতীয় সফল সরিষা, তিল ও তিসির চাষ করা এবং বিভিন্ন ফুল ও সব্জির চাষ করা যেতে পারে।
জনসচেতনতার উদ্যোগ আছে বাস্তবায়ন নেই : তামাক চাষ বন্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। সেগুলো হচ্ছে—রেডিও ও টিভিতে জারি ও সারিগান প্রচার, স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্কানুষ্ঠান করা, দেয়ালে দেয়ালে তামাকের কুপ্রভাব প্রচার করা, বাজারে-বন্দরে তামাকের বিরুদ্ধে নাটক-নাটিকা মঞ্চায়ন করা, লিফলেট ও পোস্টার সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে বিতরণ করা, ধূমপানবিরোধী আইনকে কার্যকর করার ব্যাপারে জোর পদক্ষেপ নেয়া ও কৃষি তথ্য সার্ভিসের ফিলার তৈরি করে জনাকীর্ণ স্থানে প্রচার করা। তবে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে উদ্যোগ নেয়া হলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন নেই। পর্যাপ্ত উপকরণ না পাওয়া ও কৃষি কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে এ বিষয়ে এখনও তেমন কোনো প্রচারণামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৪৫ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু লালমনিরহাট জেলায় ৫ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে। এসব জমিতে আগে আলুসহ অন্যান্য ফসলের চাষ হতো। এছাড়াও নীলফামারী জেলায় ৪ হাজার ৭৯০ হেক্টর, মেহেরপুরে ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর, কুষ্টিয়ায় ২ হাজার হেক্টর, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ২৬৬ হেক্টর, খাগড়াছড়ি ৬৮০ হেক্টর, বান্দরবানে ৩ হাজার ১৯০ হেক্টর, চট্টগ্রামে ৩৮ হেক্টর, চুয়াডাঙ্গায় ৭৩০ হেক্টর, ঝিনাইদহে ১ হাজার ২১৫ হেক্টর, রাঙামাটিতে ২৭৫ হেক্টর, রংপুরে ২ হাজার ৫৮০ হেক্টর, টাঙ্গাইলে ৯৫ হেক্টর, কক্সবাজারে ১ হাজার ৫৫ হেক্টর ও দিনাজপুরে ৩১ হেক্টর জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষি কর্মকর্তা জানান, কৃষকরা উত্পাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বেশি লাভের আশায় তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছে। তারা চাষ এলাকাও পরিবর্তন করছে। আগে কম জনবসতিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় তামাক চাষ বেশি হতো। এখন লোকালয়ে তামাক চাষ শুরু হয়েছে। তিনি উদাহরণস্বরুপ বলেন, আগে পার্বত্য তিন জেলা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে তামাক চাষ বেশি হতো। এখন লালমনিরহাট ও নীলফামারির মতো কৃষি এলাকায় তামাক চাষ হচ্ছে। এমনকি ঢাকার পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলাতেও তামাক চাষ হচ্ছে। এদিকে কৃষি অধিদফতরের সম্প্রতি জারি করা এক চিঠিতে তামাক চাষের ক্ষতির দিক সম্পর্কে বলা হয়েছে, তামাক গাছের শিকড় মাটির গভীর থেকে খাদ্য গ্রহণের ফলে জমির উর্বরা শক্তি কমে যাচ্ছে, তামাক চাষে অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহারের ফলে মাটির অম্লতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তামাক চাষের ফলে তামাক থেকে উত্পাদিত পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্পাদিত তামাক পাতা শুকিয়ে তা দিয়ে তামাকজাত পণ্য তৈরি করা হয়। তামাক পাতা শুকাতে প্রয়োজন হয় বড় আকারের বিশেষ ধরনের চুল্লি। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, ১০০ কেজি কাঁচা তামাক পাতা শুকাতে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়াতে হয়। এগুলো পোড়ানোর সময় নির্গত ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে দূষিত হয় পরিবেশ। এ সময় এর আশপাশ দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর কার্বনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস দূষিত ও গরম করে বায়ুমণ্ডলকে। ওয়ার্ক ফর আ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর যে পরিমাণ গাছ কাটা হয় তার প্রায় এক চতুর্থাংশই পোড়ানো বা ব্যবহার করা হয় কেবল তামাক পাতা শুকানোর জন্য।
তামাক চাষ নিরুত্সাহিতকরণ কর্মসূচি : তামাক চাষ বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলেও কৃষকদের নিরুত্সাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তামাক চাষের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি চাষীদের বিকল্প লাভজনক ফসল চাষের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবেশে ক্ষতিকারক তামাক চাষের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও উচ্চ মূল্যের ফসল আবাদের দিকে সবার ঝুঁকতে হবে। তামাক চাষের পরিবর্তে মৌসুমে ফসলের আবাদের ব্যবস্থা নেয়া, উচ্চ মূল্যের ফসলের চাষ বাড়ানো, পরিবর্তিত আবহাওয়ায় সম্ভাবনাময় শস্য বিন্যাসের পরিবর্তন আনা, তামাকের পরিবর্তে দানা জাতীয় ফসল গম, ভুট্টা, কাউন ও চিনার চাষ করা, তামাক চাষ এলাকায় সাথী ফসলসহ আখ, আলু, গাজর, টমেটো আবাদ করা, ডাল জাতীয় ফসল মুগ, মসুর, খেসারি ও তেলজাতীয় সফল সরিষা, তিল ও তিসির চাষ করা এবং বিভিন্ন ফুল ও সব্জির চাষ করা যেতে পারে।
জনসচেতনতার উদ্যোগ আছে বাস্তবায়ন নেই : তামাক চাষ বন্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। সেগুলো হচ্ছে—রেডিও ও টিভিতে জারি ও সারিগান প্রচার, স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্কানুষ্ঠান করা, দেয়ালে দেয়ালে তামাকের কুপ্রভাব প্রচার করা, বাজারে-বন্দরে তামাকের বিরুদ্ধে নাটক-নাটিকা মঞ্চায়ন করা, লিফলেট ও পোস্টার সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে বিতরণ করা, ধূমপানবিরোধী আইনকে কার্যকর করার ব্যাপারে জোর পদক্ষেপ নেয়া ও কৃষি তথ্য সার্ভিসের ফিলার তৈরি করে জনাকীর্ণ স্থানে প্রচার করা। তবে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে উদ্যোগ নেয়া হলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন নেই। পর্যাপ্ত উপকরণ না পাওয়া ও কৃষি কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে এ বিষয়ে এখনও তেমন কোনো প্রচারণামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
Lot of information,wonderful.
ReplyDelete